|
সুনেত্রতে অনুসন্ধান কূপ খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। তিন হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খননের লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার বেলা ১১ টায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের গাভী গ্রামে খনন শুরু হয়। গ্যাস পাওয়া গেলে তিতাসের পরে এই ক্ষেত্রটি হবে দেশের সব থেকে সমৃদ্ধ গ্যাস ক্ষেত্র।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান গ্যাসকূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় ধর্মপাশার সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক চিশতি, সুনেত্রর প্রকল্প পরিচালক বাপেক্সের উপ মহাব্যবস্থাপক (জিওফিজিক্যাল ডিভিশন) নুরুল ইসলামসহ বাপেক্স এবং পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কূপ খনন উদ্বোধনের পর অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, সুনেত্র খুবই সম্ভাবনাময় স্ট্রাকচার। দ্বিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপের ফলাফল দেখে ধারণা করা হচ্ছে সুনেত্র একটি বড় গ্যাস ক্ষেত্র হতে পারে। তবে খনন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। নবেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিন টিসিএফ-এর মতো গ্যাস মজুদ থাকতে পারে। তবে এ মজুদ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এখানে গ্যাস পাওয়া গেলে আশপাশের আরও কিছু এলাকা সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে। গ্যাস পাওয়া গেলে এখানে পরপর কয়েকটি উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুূজা আহমেদ ফারুক বলেন, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের প্রথম প্রকল্প হিসেবে সুনেত্রতে কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব দেয়ার পর দ্রুততম সময়ে তা অনুমোদন হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় স্ট্রাকচার চিহ্নিত হওয়ার পর কূপ খননে একটু বেশি সময় লেগে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।
রিগ বিজয়-১০ দিয়ে অনুসন্ধান কূপটি খনন করা হবে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সুনেত্র তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পটি ৮০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গ্যাস পাওয়া গেলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য ৮০ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন লাইন বসানো হবে। যা কিশোরগঞ্জ বিবিয়ানা পাইপ লাইনে সংযুক্ত করবে।
বাপেক্স সূত্র জানায়, ২০০৮-০৯ মৌসুমে ব্লক ১১ তে নেত্রকোনা জেলা এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বাপেক্স এর নিজস্ব অর্থায়নে ৩০৪ দশমিক ১৯ লাইন কিলোমিটার ৩০ ফোল্ড ২-ডি সাইসমিক সার্ভের (ভূতাত্ত্বিক জরিপ) উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ওই এলাকায় দুটি প্রসপেক্ট চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া ২০০৯-১০ অর্থবছরে আরো ২৫০ থেকে ৩০০ লাইন কিলোমিটার সাইসমিক সার্ভের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বাপেক্স মনে করছে ওই এলাকায় দুই থেকে তিন টিসিএফ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। স্ট্রাকচারটি নেত্রকোনা এবং সুনামগঞ্জ দুটি জেলায় অবিস্থিত হওয়ায় নামকরণ করা হয়েছে সুনেত্র।
|