|
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ভারত টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ করলে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হবে। এটা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত 'জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা' বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মিজান বলেন, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিবেশে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। এতে কৃষক-জেলেসহ লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্যোগের মধ্যে পড়বে। তাদের পেশা পরিবর্তন করতে হবে। এমনকি এই বিপর্যয় থেকে ভারতের নাগরিকরাও রক্ষা পাবে না। বাঁধ নির্মাণে ভারতের সংকল্প একটি মানবতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান ছাড়া আর কিছুই নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি হত্যার হুমকি পাওয়া প্রসঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, 'বারবার হত্যার হুমকি দেওয়া হলেও কমিশনের কেউ কোনো কাজ করতে দ্বিধাবোধ করব না।' তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কথা বলায় এ হুমকি দেওয়া হয়েছে। যত হুমকিই আসুক দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, কারো ব্যবসার ক্ষতি হলে, আইন লঙ্ঘন করে কাউকে কাজ করতে না দিলে এবং দুর্নীতি করে যারা মানুষের অধিকার হরণ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও যদি হত্যার হুমকি দেওয়া হয় তবুও মানবাধিকার কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে।
ড. মিজান বলেন, 'শুদ্ধভাবে আমাদের আসনে থাকব, কোনো শৈথিল্য দেখবেন না।' জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের 'মানবাধিকার ও অধিকার' রক্ষায় সব সময় কাজ করে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর মহাপরিচালক আহসান জাকির ভূমিকম্পের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ও দুর্যোগকালে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্ররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবা-উল-আলম ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
|