|
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে দক্ষিণ দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গেলে নজরে পড়ে ঐতিহ্যবাহী হিমছড়ির সেই পাহাড়ি ঝরনাটি। একসময় এই ঝরনার পরিচিতি দেশব্যাপী থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারের অভাবে এটি মরে যাচ্ছে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, কয়েক বছর আগে হিমছড়ি পাহাড়টি কেটে ফেলায় ঐতিহ্যবাহী ঝরনাটিও হারিয়ে যাচ্ছে। এখন ভাঙা ঝরনা থেকে অল্প পরিমাণ পানি পড়ে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সড়ক থেকে হেঁটে ঝরনা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তাটিও এত দিনে পাকা করা হয়নি। যে কারণে কয়েক বছর ধরে এই ঝরনায় সিনেমা ও নাটকের কোনো সুটিং হচ্ছে না।
জনশ্রুতি রয়েছে, এই পাহাড়টির আদি নাম ‘পরীমুরা’। কথিত আছে, বানাছা পরীর কন্যা ‘হিমপরী’ তাঁর সখিদের নিয়ে পাহাড়চূড়ার ঝরনায় গোসল করতেন এবং আড্ডা দিতেন। এই ‘হিম’ পরীর নামানুসারে ঝরনার (স্থানীয় ভাষায় ছড়া) নামকরণ হয় ‘হিমছড়ি’।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বন বিভাগ এই হিমছড়ি ঝরনাটি ইজারা দিয়ে পেয়েছে প্রায় এক কোটি ১৮ লাখ টাকা। গত ১০ বছরে ইজারার বিপরীতে বন বিভাগের আয় হয় প্রায় আট কোটি টাকা। অথচ ঝরনাটির উন্নয়নে এ পর্যন্ত কোনো টাকা ব্যয় করা হয়নি। তার পরও প্রতিবছর ছয় থেকে সাত লাখ পর্যটক এই ঝরনাটি দেখতে যাচ্ছে।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বিপুল কৃঞ্চ দাশ বলেন, ঝরনার পানি বৃদ্ধি, পানির ফোয়ারা, পাথরের স্লাপ তৈরি এবং বনায়নের মাধ্যমে হিমছড়ি ঝরনাটি সংস্কারের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে ঝরনার সংস্কারকাজও চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
|